নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ মে ২০২৬
জেরুজালেম ও ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরাইলের মধ্যেও যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই যুদ্ধবিরতি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মানতে বাধ্য হলেও দেশটির অভ্যন্তরে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ইসরাইলি সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা। কিন্তু হিজবুল্লাহর লাগাতার রকেট হামলার কবলে থাকা ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের সাথে ‘বেঈমানি’ হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি ছিল, হিজবুল্লাহকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করার আগ পর্যন্ত যেন যুদ্ধ চলে। কিন্তু ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় সাধারণ ইসরাইলিদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।
আল-জাজিরা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবানন সীমান্তে এক ‘চোরাবালিতে’ আটকে গেছে। তারা হিজবুল্লাহকে পরাজিত করতে নতুন করে অভিযান শুরু করলেও দেখা গেছে হিজবুল্লাহ পরাজিত হওয়া তো দূরে থাক, উল্টো নিজেদের আরও শক্তিশালীভাবে পুনর্গঠিত করেছে। বর্তমানে ইসরাইলি সামরিক কমান্ড সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খাচ্ছে—যেখানে তারা না পারছে জয়ী হতে, না পারছে লড়াই থেকে সরে আসতে।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই সামরিক ব্রিফিংয়ে ইরানের ওপর ‘স্বল্পমেয়াদী কিন্তু শক্তিশালী’ বিমান হামলার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইরানে হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও দিনের শেষে তা ১১৪ ডলারে নেমে আসে, তবুও এই অস্থিরতা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তাই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ।
উপসংহার: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এখন এক অত্যন্ত জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে লেবানন সীমান্তে ইসরাইলের সামরিক ব্যর্থতা, অন্যদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক চাপের নীতি—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মে মাস বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক চ্যালেঞ্জিং সময় হতে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি এবং আন্তর্জাতিক সামরিক ব্রিফিং ডসিয়ার।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সম্পাদনায়: নিউজ ডেস্ক
বিস্তারিত তথ্যের জন্য:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |